ইঞ্জিয়ারের নামেই সেতু
লেখা : সুদীপ্ত মুখার্জী
আমি সুদীপ্ত মুখার্জী। ছোট থেকেই গান শোনা,খেলা-ধুলা ও বইপড়ায় আগ্রহ ছিল। পরে ছবি তোলার নতুন নেশা যোগ হয়েছে। যে কারণে নানান জায়গায় ঘুরে বেড়ানো আর সে সব জায়গার ছবি ও সেখানকার ঐতিহ্যের ইতিহাস জানার আগ্রহ হয়। পরে সে সব ছবি আর সাথে কিছু লেখা ফেসবুকে দিতে থাকতাম, তখন অনেক বন্ধুর পছন্দ হওয়াতে, তারা আমায় ব্লগ এ লেখার অনুপ্রেরণা যোগায়, যে কারণে আমার ব্লগ লেখা শুরু।
লেখা : সুদীপ্ত মুখার্জী
লেখা : সুদীপ্ত মুখার্জী
![]() |
| নিমতলা মহাশ্মশান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমাধিস্থল |
বেবী বইয়ের তাক ঝাড়পোছ করতে করতে মাঝে মাঝে কোনো বই নিয়ে পাতা ওল্টাতো। বইয়ের কিছুটা অংশ পড়তো, আবার যথাস্থানে বইটা রেখে দিতো। এই দৃশ্য গৃহকর্তা প্রবোধবাবুর দৃষ্টি এড়ায় নি। একদিন বইয়ের তাক ঝাড়তে গিয়ে সে তসলিমা নাসরিনের "আমার মেয়েবেলা" বইটা পায়। তিনি বেশ আগ্রহের সাথে বইটা পড়তে লাগল। এ যেন তারই জীবন কাহিনী লেখা রয়েছে। প্রমথবাবু বেবীকে খাতা ও পেন্সিল এনে দিয়ে বলেন রোজ এক দু পাতা করে লিখতে। বেবী জানতে চায় কি লিখবো। তিনি বলেন তার যা মনে হয় তাই লিখতে বা তার জীবনের কাহিনীটাও লিখতে পারে।
কাজের অবসরে বেবী রোজ এক পাতা দু পাতা করে লিখতে শুরু করে। ধীরে ধীরে লিখলো তার শৈশবের কথা, তার বিবাহের কথা, তার সন্তান ধরণের কথা, তার অত্যাচারিত হওয়ার কথা। এই সময় বেশ কিছুদিনের জন্য গৃহকর্তা দক্ষিণ ভারতে যান, ফিরে এসে দেখেনবেবী ততদিনে একশো পাতা লিখে ফেলেছে। লেখাটি পরে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান। তিনি তার বেশ কয়েকজন বন্ধুকেও লেখাটি পড়ান। সবাই একবাক্যে লেখাটির তারিফ করে। তাঁরা অনেকে এনি ফ্রাঙ্কের ডায়েরির সাথে লেখাটিকে তুলনা করেছিলেন।
প্রবোধবাবু নিজ উদ্যোগে লেখাটিকে বইয়ের আকারে প্রকাশ করেন। বইটির নাম হয় "আলো -আঁধারি"। এভাবেই দু- মলাটে তিনি বেবীর জীবনকে ধরে ফেললেন। পরবর্তী কালে এই বইটা ইংরেজিতে ও আরো ১২ টি ভাষায় অনুবাদ হয়। .পরে তিনি "ইসস্থ রূপান্তর" ও "ঘরে ফেরার পথ" নামে আরো দুটি বই লিখেছেন। সব কটা বইতেই সে তার শৈশব ও কৈশোরকে অক্ষরবৃত্তে ধরেছেন।
হটটকের মতোই তার জীবনের গল্প বিক্রি হতে লাগলো। তিনটি বই বেস্ট সেলার হয়। বেবী হয়ে ওঠে পরিচারিকা থেকে লেখিকা। তার চলা শুরু হয় গলি পথ থেকে রাজপথে।
লেখার সত্ব : সুদীপ্ত মুখার্জী
তারিখ :০৫-০৭-২০২০
যোগাযোগ : ৯৮৩০৪২০৭৫০
➧ আমার এই লেখাটি ও ছবিটি যদি আপনার ভালো লাগে, তাহলে অবশ্যই আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। পরবর্তী লেখাগুলো পেতে ব্লগটিকে ফলো করে রাখুন।
ছবি ও লেখার সত্ব : সুদীপ্ত মুখার্জী
তারিখ :২৮-০৬-২০২০
যোগাযোগ : ৯৮৩০৪২০৭৫০
➧ আমার এই লেখাটি ও ছবিটি যদি আপনার ভালো লাগে, তাহলে অবশ্যই আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। পরবর্তী লেখাগুলো পেতে ব্লগটিকে ফলো করে রাখুন।